বাংলাদেশের বীমা খাত বর্তমানে বড় অস্থিরতার মুখে। ২০২৪ সালে প্রিমিয়াম সংগ্রহ বেড়েছে, কিন্তু বৃদ্ধির গতি গত তিন বছরের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। যদিও মোট প্রিমিয়াম ১৮,৭৬৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, লাইফ সেগমেন্টে প্রিমিয়াম সামান্য নামলেও, নন‑লাইফ সেগমেন্ট কিছুটা সম্প্রসারিত হয়েছে।
কিন্তু প্রবৃদ্ধি থাকলেও গ্রাহকদের আস্থা অনেকটা ঝালাই দেয়—কারণ ক্লেইম নিষ্পত্তি হার অনেকেই ভালো নেই। আইডি আর এ (IDRA) আরও তথ্য প্রকাশ করেছে যে, ২০২৪ সালে প্রায় মাত্র ৫৭ শতাংশ বীমা দাবিই নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পতন। জীবিত বীমার ক্ষেত্রে নিষ্পত্তি হার ২০২৩‑এ ছিল প্রায় ৭২ শতাংশ, কিন্তু ২০২৪-এ তা ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে। নন‑লাইফ সেগমেন্টে অবস্থা আরো খারাপ — ক্লেইমের প্রায় ৬৮ শতাংশই অনিরস্রষ্ট (unpaid) অবস্থায় রয়েছে, যা প্রায় ২,৬৩৫ কোটি টাকার দাবির পল্যব্যাক বোঝায়।
এই পরিবেশে উপকার করা প্রতিষ্ঠান হিসেবে MetLife বাংলাদেশ দাঁড়িয়েছে এক মজবুত পারফর্মার হিসেবে। ২০২৪ সালে তারা প্রায় ২,৮৯৫ কোটি টাকা ক্লেইম নিষ্পত্তি করেছে এবং তাদের ক্লেইম স্যাটেলমেন্ট রেশন প্রায় ৯৭.৭৯ শতাংশ, যা শিল্পের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
তবে পুরো শিল্পে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার অভাব এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। IDRA জানিয়েছে ২০২৫-এর প্রথমার্ধে জীব বীমার মধ্যে অপ্রস্তুত ক্লেইমের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তবে পুরোপুরি সমস্যা কাটতে এখনও সময় লাগবে। বিশেষত নন‑লাইফ বীমায়, IDRA-র রিপোর্টে দেখানো হয়েছে যে ২০২৫-এর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ৯২ শতাংশ ক্লেইম অপরিশোধিতই ছিল, যা গ্রাহকদের নিরাশার মাত্রা বাড়াচ্ছে।
মোটের ওপর, বাংলাদেশের বীমা শিল্পে প্রবৃদ্ধি থাকলেও এটি ক্লেইম নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা নিশ্চিত করার জন্য ন্যায়সঙ্গত নিয়ন্ত্রক তদারকি, স্বচ্ছতা, এবং আরও কার্যকর ক্লেইম প্রসেসিং অপরিহার্য।